আইন বলছে: পারস্পরিক সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয় « বাংলাখবর প্রতিদিন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, আদৌ কি ধর্ষণ ?

আইন বলছে: পারস্পরিক সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয়

মোঃ হাসানুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি।
আপডেটঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১০:৫৩
মোঃ হাসানুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি।
আপডেটঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১০:৫৩
Link Copied!
প্রতীকী ছবি: অনৈতিক সম্পর্ক, ধর্ষণ ও ভুল ধারণা সম্পর্কে আইন -- দৈনিক বাংলাখবর প্রতিদিন

বর্তমান সমাজে প্রচলিত কথিত প্রেমের নামে অবৈধ, অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ একটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অথচ দু’দিন পর মতের অমিল হলেই মেয়েরা করে বসেন ধর্ষণ মামলা। কারণ তাদের জন্য আইনে সহজলভ্য অস্ত্রতো রয়েছেই। কিন্তু অনেকেই জানেনা ধর্ষণের সঠিক সজ্ঞা ও ব্যাখ্যা। অথচ বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সবকিছুর স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
এবার ভারতেও মেয়েদের এমন স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হচ্ছে। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক গড়লে সেটিকে ধর্ষণ বলা যাবে না বলে উল্লেখ করেছে ভারতের একাধিক হাইকোর্ট। দেশটির বিভিন্ন আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সঙ্গীর সাথে মতের অমিল হলে নারীরা ধর্ষণবিরোধী আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ঘটনাপ্রবাহ:
সম্প্রতি ভারতের উত্তরখণ্ড হাইকোর্ট এক মামলার রায় দিতে গিয়ে আবারও এমন পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। ভারতের জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অসংখ্য গণমাধ্যম প্রচার হলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
দেশটির একাধিক হাইকোর্ট জানিয়েছে, দুজনের সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসম্পর্ক গড়লে এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলেও তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। এর আগে দেশটির সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছিল, বিয়ে ছাড়া দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তাকে ধর্ষণ বলা যাবে না। এবার উত্তরখণ্ড হাইকোর্টও একই পর্যবেক্ষণ জানাল।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে প্রচার:
আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত ৫ জুলাই একটি ধর্ষণের মামলা খারিজ করে দেয় উত্তরখণ্ড হাইকোর্ট। ২০২০ সালের ৩০ জুন এক নারী মামলাটি দায়ের করে। এতে বলা হয়, ২০০৫ সাল থেকে এক পুরুষের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। চাকরি পেয়ে বিয়ে করবেন এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা এ সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু চাকরি পেয়ে ওই পুরুষ অন্য নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত জানায়, বিবাহিত জেনেও পুরুষের সঙ্গে স্বেচ্ছায় সম্পর্ক রাখেন ওই নারী। ফলে তাদের মধ্যে সবসময় সম্মতি ছিল।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি দর্শন:
এ প্রসঙ্গে উত্তরখণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি শরদকুমার শর্মার বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ভারতীয় ‘দণ্ডবিধির ৩৭৬ নম্বর অনুচ্ছেদ’ বা ধর্ষণবিরোধী আইনের অপব্যবহার করছেন কেউ কেউ।

বাংলাদেশ আইনে ধর্ষণের সজ্ঞা:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী-
৯৷ (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি 1[মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখ্যা: যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত 2[ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা 3[ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শব্দটা কতটা যৌক্তিক:

দীর্ঘদিন সম্পর্ক রেখে শারীরিক সম্পর্ক করে, কোনো কারণে বিচ্ছেদ হলে সেটা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে কি না, এমন বিষয় বিভিন্ন সময় নানাবিধ মতামত পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই অনেক আইনজীবী ও গণমাধ্যম এসব নিয়ে লেখালেখিও করেছেন।
প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আমাদের অনুসন্ধান:
এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বাংলা খবর প্রতিদিন।
ইতিহাস বা রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

পর্যবেক্ষণ-১
বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

পর্যবেক্ষণ-২
এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালতের রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

পর্যবেক্ষণ-৩
এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

ধারণা অর্জন:
এগুলো শুধুমাত্র উদাহরণ ছিলো। তাছাড়া আইনের বিভিন্ন ধারায় বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। এসব ধারার উপর ভিত্তি করেই আইন কার্য পরিচালিত হয়। কথিত ধর্ষণ মামলার ফলে ছেলে পক্ষ হয়রানি হয় বটে। তবে দীর্ঘদিন স্বেচ্ছায় বা উভয়ের সম্মতিতে যৌনমিলন করে, শেষে যদি ধর্ষণ মামলা করা হয়। তাহলে সেটা আদালতে টিকে না। তবুও মেয়েদেরকে আবেগী হয়ে এহেন অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে দেখা যায়। তারা হয়তো ভাবে, তারা আইনের মাধ্যমে ছেলেকে ফাঁসাবে অথবা বিচার আদায় করবে। অথচ তারা সম্পূর্ণ বোকার স্বর্গে বাস করছে। তাই এসব বিষয়ে আইনের ধারা জানা ও সচেতনতার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের আইনজীবীদের দর্শন:

আইন একটি জটিল বিষয়। তাই এবিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন, এমন বিশেষজ্ঞদের থেকেই মতামত নেয়া উত্তম। বাংলা খবর প্রতিদিন উক্ত বিষয়ে সার্বিক অনুসন্ধানের জন্য কথা বলেন কয়েকজন স্বনামধন্য আইনজীবীদের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের কয়েকজন আইনজীবীও সম্প্রতি ভারতের এমন রায়ের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, আমাদের দেশের আইনে মেয়েদের অগাধ স্বাধীনতা রয়েছে। তাছাড়া আইনের অনেক ফাঁক-ফোকরও রয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ, শাস্তি, প্রতারণা, কাউকে ফাঁসানো, এসব বিষয় নিয়েও আমাদের দেশে পূর্ণাঙ্গ আইন রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক রেখে, পরে বিচ্ছেদ হলে সেটাকে ধর্ষণ বলে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। বরং এটা সামজিক দৃষ্টিতে অন্যায়। আইন ভালোভাবে না জানার কারণে বিভিন্ন যায়গা থেকে পরামর্শ নিয়ে খারাপ ধারণা করে বসে মেয়েরা। অবশ্য নারী নির্যাতন দমন আইনের সুযোগ নিয়ে অসংখ্য মেয়ে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই বলে সব মেয়েদের খারাপ বলার কোনো সুযোগ নেই।

আমরা আইনজীবী হয়ে এগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। কারণ আমাদের দেশের আইনে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যার কারণে ছেলেরা ধর্ষক হিসেবে শাস্তি না পেলেও, তাকে অনেক হয়রানি হতে হয়। তবে এমন মামলায় (উভয়ের সম্মতিতে যৌনমিলন ধর্ষণ নয়) এ পর্যন্ত কাউকে ধর্ষক বলে শাস্তি দেয়া হয়নি।

মূলকথা হলো: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, এটা কোনভাবেই ধর্ষণ হতে পারে না। বরং মেয়েদেরকে আরও সচেতন ও সংযম হতে হবে।

টার্গেটকৃত ছেলেদের প্রতি মেয়েদের কৌশল:

একটা ছেলের জীবন ধ্বংসের জন্য একটা ধর্ষণ মামলাই যথেষ্ট। পছন্দের ছেলেকে পটিয়ে বা ছেলেদের ইচ্ছাতেই মেয়েরা তাদের ইচ্ছামতো প্রেম করবে। কখনোবা এমন কথিত প্রেমের সংখ্যা অগণিত হয়ে যায়। তবুও তাদের তৃপ্তি যেনো আকাশছোঁয়া। কথিত এমন প্রেমের নামে অসামাজিক, অনৈতিক, লজ্জাহীন কার্যকলাপ তারা যৌনমিলনে পৌঁছায়। কখনোবা বিয়ের কথা বলেও এমন অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায় তারা। কিন্তু কোনো কারণে বিয়ে না করলেই তখন সব দোষ ছেলেটার।
ব্যস…. ঠুকে দাও কথিত ধর্ষণ মামলা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মেয়েদেরকেও আইন সমীহ করে চলতে হবে।

অসংখ্য ফাঁদ:
বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন যায়গায় দেখা যায়, অসংখ্য প্রতারক ও মুখোশধারী মেয়ে রয়েছে। যাদের প্রধান কাজই হলো প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছেলেদের নিঃস্ব করা। ধনী ছেলেদের টার্গেট করে, কথিত প্রেমের নামে মেয়েরা ছেলেদের সাথে যৌনসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে বিভিন্ন উপায়ে তাদেরকে জিম্মি করে। এরপর আদায় করে মোটা অংকের অর্থ। অথবা মোটা অংকের দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে করতে বাধ্য করে। উদ্দেশ্য একটাই- হয় টাকা দাও, না হয় কথিত বিয়ের নামে দেনমোহর দাও। এমন হাজারো ফাঁদের উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে।

তাই সমাজবিদ ও আইন বিশারদগণ মনে করেন, আইনের প্রকৃত ব্যবহার করার স্বার্থে মেয়েদের প্রতারণা বন্ধে আইন করা প্রয়োজন।

মেয়েদের স্বেচ্ছাচারিতা:
একটা মেয়ে তার ইচ্ছামতো প্রেম করবে, ছেলেটরা সাথে ঘুরবে, ছেলের পকেটের টাকা শেষ করবে। এক পর্যায়ে উভয়ের ইচ্ছাতেই যৌনমিলন করবে তারা। মোন চাইলে একজনের সাথে থাকবে, মোন না চাইলে একাধিক ছেলের সাথে চলবে এমন অসামাজিক, অনৈতিক কাজ। এরপর যাকে, যেদিন ভালো লাগবে, তাকে চাপ দিবে বিয়ের জন্য। এটা স্বেচ্ছাচারীতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আইন ও স্বাধীনতার অপপ্রয়োগ:

সারা বিশ্বে বিশেষ করে বাংলাদেশের নারীদের জন্য অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন না থাকলেও, মেয়েদের সুরক্ষার জন্য রয়েছে অসংখ্য আইনি সুবিধা। এরই সুযোগ নিয়ে মেয়েরা বিভিন্ন অনৈতিক, অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। যখন ইচ্ছা, যেখানে ইচ্ছা ঘুরবে, পার্টি করবে, বিশৃঙ্খলা করবে, অথচ কেউ ভয়ে কিছু বলতে পারবে। কখনো কোনো কারণে তাদের সাথে হিতে বিপরীত হলেই ছেলেদের আর রক্ষা নেই।

ভুক্তভোগী ছেলেদের মত:
নারী নির্যাতন আইনের কোষাঘাতে পুরুষ সমাজ আজ অতিষ্ঠ। সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবশ্যই উক্ত আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে নারীদেরকে সংযত রাখতে এবং পুরুষ নির্যাতন বন্ধ করতে পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন কার্যকর করতে হবে। তাহলে সমাজে অসৎ মেয়েদের অসৎ কার্যকলাপ অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে। কারন আইনের বাইরে কেউ নয়।

বিশেষজ্ঞদের দাবি:
সমাজের শৃঙ্খলা ও সামাজিকতা রক্ষায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন করা হয়। নারী নির্যাতন বন্ধে যেমন আইন রয়েছে। তেমনিভাবে নারীদের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধেও আইন করা উচিত। একটা মেয়ে সম্মতি না দিলে, একটা ছেলে জোর করে তাকে স্পর্শ করারও সাহস করবে না। করলেই নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলা হবে। একথা চিন্তা করে কোন ছেলে মেয়েদের সাথে খারপ আচরণের সাহস করবে না।

তবে উভয়ের সম্মতিতে যৌনমিলন করে সেটাকে ধর্ষণ মামলার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। যদি মামলা হতেই হয়, তাহলে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ছেলে-মেয়ে উভয়েরই শাস্তি হওয়া উচিত।

দাবির যৌক্তিকতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ নির্যাতন বিরোধী আইন কার্যকর করার এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ নারী নির্যাতন দমন আইনের ভয়ে পুরুষরা যেমন নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে। তেমনিভাবে পুরুষ নির্যান দমন আইন থাকলে কোনো মেয়েই অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু করার সাহস করবে না। তাছাড়া সমাজে এখন প্রতিনিয়তই নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় নারী নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কার্যকর, সামাজিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি ও অসামাজিক কার্যকলাপ রোধকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বিষয়ঃ:

শীর্ষ সংবাদ:
আপিল বিভাগের শুনানি এগিয়ে আনার ব্যবস্থা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী রামপুরায় পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক নরসিংদীতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মানবন্ধন এনায়েতপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যা, যা বলল জাতিসংঘ পালিয়েছে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক গভীর রাতে পালিয়েছেন ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সেক্রেটারি ঝিনাইদহে কোটা বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০ রাজধানী সহ সারাদেশে চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাজশাহীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা-মেয়ে আহত, থানায় অভিযোগ সমাবেশে হামলা, গুলিবিদ্ধ ট্রাম্প স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সহযোগিতা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নেবে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে? বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০ শতাংশ কমাতে ইসির ৮ নির্দেশনা কোটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যায় পানি বন্দী প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ঝিনাইদহ শৈলকুপায় সাবেক ইউপি সদস্য ও তার স্ত্রীকে মারধর, বাড়িঘর ভাংচুর রামগঞ্জে যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে রিপনের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল নরসিংদীর মাধবদীতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালক হত্যাকান্ডের ঘটনায় চার জন গ্রেপ্তার আজও সারাদেশে বাংলা ব্লকেড