ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে পাশ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী « বাংলাখবর প্রতিদিন

রেলের ২১৭২ ওয়েম্যানের সবাই মাস্টার্স পাশ

ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে পাশ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী

মোঃ হাসানুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি।
আপডেটঃ ৩১ মে, ২০২৪ | ৫:১৬
মোঃ হাসানুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি।
আপডেটঃ ৩১ মে, ২০২৪ | ৫:১৬
Link Copied!
মাস্টার্স পাশ করে ওয়েম্যান -- দৈনিক বাংলাখবর প্রতিদিন

বলতে অস্বস্তি বোধ হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু থেকেই জগাখিচুড়ি মার্কা। আর একারণেই এদেশের চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাদমস্তক প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ আপনার ইনপুট যেমন হবে, আউটপুট ঠিক তেমনই আসবে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি মার্চের মধ্যে দুই ধাপে ২ হাজার ১৭২ জন ওয়েম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চতুর্থ শ্রেণীর এই (১৯তম গ্রেড) ওয়েম্যান পদের মূল কাজ রেলপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

এছাড়া রেললাইনের নাট-বল্টু টাইট দেয়াসহ ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণের কাজটিও তাদেরকেই করতে হয়। মূলত কায়িক পরিশ্রমনির্ভর পদটিতে আবেদনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে এসএসসি বা সমমান। যদিও সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে যারা ওয়েম্যান হিসেবে চাকরি পেয়েছেন, তাদের সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স পাস। এই তালিকায় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে শিক্ষার্থীরাও। অর্থাৎ বিষয়টা এমন- “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী।”

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্যঃ
চলমান নানা বিতর্ক সম্পর্কে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি কাজে যোগদান করার পর অনেক ওয়েম্যান তাদের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছেন। আর যারা এখনো কাজ করছেন, তারাও রেলপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো পরিশ্রমের কাজগুলো যথাযথভাবে করতে পারছেন না। ফলে ওয়েম্যান পদে বিপুলসংখ্যক জনবল নিয়োগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ের নিয়োগ ও তথ্যঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭৬৭ জন প্রার্থীকে রাজস্ব খাতভুক্ত ওয়েম্যান পদে অস্থায়ীভাবে চূড়ান্ত নিয়োগ ও পদায়ন দেয়া হয়। একইভাবে চলতি বছরের ৫ মার্চ চূড়ান্ত নিয়োগের পর পদায়ন হয় আরো ৪০৫ জন ওয়েম্যান। সব মিলিয়ে পদটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১৭২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছেন। অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে, ওয়েম্যানদের সবাই মাস্টার্স পাশ।

মাস্টার্স পাশ শিক্ষার্থী ও কায়িক শ্রমঃ
আলোচিত বিষয় সম্পর্কে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “ওয়েম্যানরা লাইন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, লাইনের অ্যালাইনমেন্ট খারাপ থাকলে সেটাকে ঠিক করা, কোথাও কাদা-মাটি জমে গেলে সেটাকে পরিষ্কার করার কাজগুলো করে থাকেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাদের কাজ করতে হয়। কাজগুলো করতে হয় পায়ে হেঁটে। সঙ্গে রাখতে হয় গাঁইতি, শাবল, কোদালের মতো উপকরণ।” অর্থাৎ এটি নিঃসংকোচে বলা যায়, ওয়েম্যানের কাজ উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য নয়। কারণ তারা দু’দিন বাদে এই কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে।

বাস্তবতা ও ভোগান্তিঃ
নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “১৯ গ্রেডের এই ওয়েম্যান পদে আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। এখন এটাকে এসএসসি করা হয়েছে। যোগ্যতাসম্পন্ন যে কেউ আবেদন করতে পারে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ পান প্রার্থীরা। ওয়েম্যানের কাজটাই হলো পরিশ্রমের। এবার যারা নিয়োগ পেয়েছেন, সবাই মাস্টার্স করা। এমনকি ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় সহ নামকরা কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত অনেক তরুণ এ পদে মানিয়ে নিতে পারছেন না। অনেকে চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।”

বিজ্ঞাপন

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘এটা মূলত লেবার (শ্রমিক) শ্রেণীর পদ। মাস্টার্স পাস ওয়েম্যান তো আমাদের দরকার নেই। আমাদের দরকার কাজের লোক। কারণ দিনশেষে এই উচ্চশিক্ষিত ওয়েম্যান থাকবে না আমরা জানি। পরে আবারো নিয়োগ দিতে হবে। যা রীতিমতো ভোগান্তির। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

অর্থনীতিবিদদের মন্তব্যঃ
এবিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে প্রচুরসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চাহিদা থাকলেও দক্ষতার অভাবে শিক্ষিত তরুণদের নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার চাকরিতে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। রেলের ওয়েম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসব সমস্যারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

সিপিডির মন্তব্যঃ
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন গণমাধ্যমে বলেন, ‘শুধু রেলে নয়, যেকোনো চাকরিতেই এখন দেখা যাচ্ছে; যে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়, তার চেয়ে বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাধারী প্রার্থীরা আবেদন করে। দেশে চাকরির ভয়াবহ অভাব। আমাদের গড় বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ হলে কী হবে? যুব বেকারত্বের হার তো ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশে চাকরির যে অভাব রয়েছে, রেলের ওয়েম্যান পদে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি তারই প্রতিফলন।’

জাতীয় সংসদে আলোচনাঃ
সম্প্রতি রেলওয়েতে মাস্টার্স পাস প্রার্থীরা ওয়েম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও। ইতোমধ্যে কমিটির দ্বিতীয় সভার কার্যবিবরণী প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ওয়েম্যান পদে চাকরির যোগ্যতা হলো এসএসসি পাশ ও প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। কিন্তু যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাদের সবাই মাস্টার্স পাশ। প্রার্থীরা মাস্টার্স পাসের তথ্য গোপন করে এসএসসি পাসের সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরিতে আবেদন করেছে।

ওই কার্যবিবরণীতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে কাজের ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু এখানে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই। রেলের নিয়োগের জন্য ভিন্ন নীতিমালা না থাকায় এ ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় সেখানে।

রেলমন্ত্রীর বক্তব্যঃ
দীর্ঘদিনের রীতি চোখবুঁজে সব অস্বীকার করার উপায় নেই। কাজে যোগ দেয়ার পর মাস্টার্স পাশ ওয়েম্যানদের অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। এ সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা ওয়েম্যান পদে প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি একটি অপেক্ষমাণ তালিকাও রেখেছি। যারা চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাদের শূন্য পদ এ অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা জানি, মাস্টার্স পাস করা ওয়েম্যানরা চাকরিতে থাকবে না। এ কারণে অপেক্ষমাণ তালিকা বড় করে রাখা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‌বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এক ধরনের বিপদের মধ্যেও আছি। ভবিষ্যতে রেলে এ ধরনের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন জটিলতা যেন না হয় সেজন্য চাকরি নীতিমালা পরিবর্তনের চিন্তা-ভাবনা করছি। তবে এটা তো আমরা (রেলপথ মন্ত্রণালয়) একা করতে পারব না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন লাগবে।’

সরকারি খরচের দায় কার ?
যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে কম টাকা খরচ হয় না। তবে সেই নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে খরচ হয় অনেক বেশি। বিতর্কিত পদ্ধতিতে চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই মূলত হ-য-ব-র-ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতো এতো টাকা খরচ করে নিয়োগ দেয়ার পর কেউ চাকরি ছেড়ে চলে গেলে পুনরায় নিয়োগ দিতে হয়। তারমানে আবারো খরচ, আবারো বাজেট। এই বাড়তি খরচ বা লোকসানের খরচ আসে কোথাথেকে ? তাহলে এই বাড়তি খরচের দায় নিবে কে ?

বিষয়ঃ:

শীর্ষ সংবাদ:
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭০ জন নরসিংদীতে আবারো পল্লী বিদ্যুতের হরিলুট, মাঠকর্মী আটক ! ন্যুরেমবার্গ মুট কোর্টের চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা ! আ.লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা পাটুরিয়া ঘাটে বাস চালকদের সিন্ডিকেট, যাত্রী হয়রানি চরমে ঈদের দিনে আনন্দের পরিবর্তে পরিবারে নেমে এলো শোকের ছায়া এবারের ঈদে রুবি মাল্টিমিডিয়ার “ভালোবাসায় রাখি তোমায়” হোমনার দুলালপুরে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ হোমনায় প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত উদ্ভিদ পাঠশালায় শোভাবর্ধক গাছ বিতরণ নব-নির্বাচিত শৈলকুপা ও হরিনাকুন্ডু উপজেলা চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ হোমনায় বাড়ির ছাদে ড্রাগন চাষে সফলতা নরসিংদীতে পাঁচশত অসহায় ও দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ নরসিংদীর শিবপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ নরসিংদীতে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন টাঙ্গাইল জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জগনের সমন্বয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২৪-২৫ সাক্ষর রাজধানীতে কিশোরগ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬,আটক ১১ সখীপুরে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল এক শিশুর টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ উপড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সখীপুরে প্রয়াত এস,এম আজহারুল ইসলাম স্যারের ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী